ঢাকা ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে শ্রমিক নেতা’কে হত্যার ঘটনায় আটক-৩

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:২৭:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৩
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

রাজবাড়ী প্রতিনিধি, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি আজিজ মহাজনকে কুপিয়ে হত্যা” শীর্ষক চাঞ্চল্যকর ঘটনার ০৩ জন প্রধান আসামীকে মামলার ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ১০, ফরিদপুর।

মঙ্গলবার ১৭ই অক্টোবর দুপুরে র‌্যাব ১০, ফরিদপুর কোম্পানি কমান্ডার শাইখ আক্তার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাধ্যমে জানান, বালিয়াকান্দির কোনাগ্রাম এলাকায় বসবাসকারী মৃত আজের আলী মহাজন ছেলে নারুয়া ইউনিয়নের শ্রমিক লীগের সহ-সভাপত মুন্না আজিজ মহাজন (৪০), এর সাথে গ্রেফতারকৃত আসামিদের পূর্ব হতে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধ’কে
কেন্দ্র করে গ্রেফতারকৃত আসামীরাসহ ৩২-৩৩ জন মিলে মুন্নাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।পরবর্তীতে গত ১৫ই অক্টোবর সন্ধা সাড়ে ৭টায় দিকে মুন্না নিজস্ব মোটরসাইকেলযোগে তার ভাইয়ের বাসা হতে নিজ বাড়ীতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে,পথে কোনাগ্রামস্থ একটি পাকা রাস্তার উপর পৌছালে পূর্ব হতে ওৎ পেতে থাকা ৩২-৩৩ জন লোক পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (রামদা, চাইনিজ কুড়াল, ছেনদা, লোহার রড ও বাশেঁর লাঠি ইত্যাদি) নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আজিজ মহাজনের উপর অতর্কিত আক্রমন করে। অতঃপর গ্রেফতারকৃত শাহাদাতের নির্দেশে আসামিরা আজিজ মহাজনকে নৃশংসভাবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও ছেনদা দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কোপাতে থাকে। যার ফলে ভিকটিম আজিজ মহাজন মোটরসাইকেল হতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে অন্যান্য সহযোগীরা তাদের কাছে থাকা লোহার রড ও বাশেঁর লাঠি দিয়ে বেধরক মারধর করতে থাকে যার ফলে আজিজের শরীরের বিভিন্নস্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হয় এবং তার নাক ও কান দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। আজিজের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা দ্রæত ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন আজিজকে গুরুতর রক্তাক্ত আহত অবস্থায় বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুন্নাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ১৬ই অক্টোবর রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজিজকে মৃত ঘোষনা করেন।

ওই হত্যাকান্ডের পর মৃত আজিজের ভাই মোঃ আব্দুর রহমান (৪৫) বাদি হয়ে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানায় শাহাদাত ও রাফিসহ ২৪ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৮/৯ জনের বিরুদ্ধে ১৬ই অক্টোবর সকালে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রজুর বিষয়টি জানতে পেরে উক্ত হত্যাকান্ডে জড়িত সকল আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১০ এর উক্ত আভিযানিক দল ১৭ই অক্টোবর মাঝ রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজবাড়ী জেলার কালুখালী থানাধীন কালিকাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর আজিজ মহাজনকে নৃশংসভাবে হত্যাকান্ডের সাথে
সরাসরি জড়িত মৃত তেজারত মন্ডল এর ছেলে পলাতক আসামি ১। শাহাদাত মন্ডল (৬৫), শাহাদাত মন্ডল এর ছেলে ২। মোঃ রাফি মন্ডল (৩২), ও অপর আসামী শাহাদাৎ মন্ডল এর আরেক ছেলে ৩। মোঃ মেহেদী হাসান দিপু (৩০), এদের সবাই’কে মামলার ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করে। পরে গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তররের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

মোঃ সুজন খন্দকার
রাজবাড়ী প্রতিনিধি।

সালথা প্রেসক্লাবের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

রাজবাড়ীতে শ্রমিক নেতা’কে হত্যার ঘটনায় আটক-৩

আপডেট সময় ০৬:২৭:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৩

রাজবাড়ী প্রতিনিধি, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি আজিজ মহাজনকে কুপিয়ে হত্যা” শীর্ষক চাঞ্চল্যকর ঘটনার ০৩ জন প্রধান আসামীকে মামলার ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ১০, ফরিদপুর।

মঙ্গলবার ১৭ই অক্টোবর দুপুরে র‌্যাব ১০, ফরিদপুর কোম্পানি কমান্ডার শাইখ আক্তার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাধ্যমে জানান, বালিয়াকান্দির কোনাগ্রাম এলাকায় বসবাসকারী মৃত আজের আলী মহাজন ছেলে নারুয়া ইউনিয়নের শ্রমিক লীগের সহ-সভাপত মুন্না আজিজ মহাজন (৪০), এর সাথে গ্রেফতারকৃত আসামিদের পূর্ব হতে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধ’কে
কেন্দ্র করে গ্রেফতারকৃত আসামীরাসহ ৩২-৩৩ জন মিলে মুন্নাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।পরবর্তীতে গত ১৫ই অক্টোবর সন্ধা সাড়ে ৭টায় দিকে মুন্না নিজস্ব মোটরসাইকেলযোগে তার ভাইয়ের বাসা হতে নিজ বাড়ীতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে,পথে কোনাগ্রামস্থ একটি পাকা রাস্তার উপর পৌছালে পূর্ব হতে ওৎ পেতে থাকা ৩২-৩৩ জন লোক পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (রামদা, চাইনিজ কুড়াল, ছেনদা, লোহার রড ও বাশেঁর লাঠি ইত্যাদি) নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আজিজ মহাজনের উপর অতর্কিত আক্রমন করে। অতঃপর গ্রেফতারকৃত শাহাদাতের নির্দেশে আসামিরা আজিজ মহাজনকে নৃশংসভাবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও ছেনদা দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কোপাতে থাকে। যার ফলে ভিকটিম আজিজ মহাজন মোটরসাইকেল হতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে অন্যান্য সহযোগীরা তাদের কাছে থাকা লোহার রড ও বাশেঁর লাঠি দিয়ে বেধরক মারধর করতে থাকে যার ফলে আজিজের শরীরের বিভিন্নস্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হয় এবং তার নাক ও কান দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। আজিজের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা দ্রæত ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন আজিজকে গুরুতর রক্তাক্ত আহত অবস্থায় বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুন্নাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ১৬ই অক্টোবর রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজিজকে মৃত ঘোষনা করেন।

ওই হত্যাকান্ডের পর মৃত আজিজের ভাই মোঃ আব্দুর রহমান (৪৫) বাদি হয়ে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানায় শাহাদাত ও রাফিসহ ২৪ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৮/৯ জনের বিরুদ্ধে ১৬ই অক্টোবর সকালে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রজুর বিষয়টি জানতে পেরে উক্ত হত্যাকান্ডে জড়িত সকল আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১০ এর উক্ত আভিযানিক দল ১৭ই অক্টোবর মাঝ রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজবাড়ী জেলার কালুখালী থানাধীন কালিকাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর আজিজ মহাজনকে নৃশংসভাবে হত্যাকান্ডের সাথে
সরাসরি জড়িত মৃত তেজারত মন্ডল এর ছেলে পলাতক আসামি ১। শাহাদাত মন্ডল (৬৫), শাহাদাত মন্ডল এর ছেলে ২। মোঃ রাফি মন্ডল (৩২), ও অপর আসামী শাহাদাৎ মন্ডল এর আরেক ছেলে ৩। মোঃ মেহেদী হাসান দিপু (৩০), এদের সবাই’কে মামলার ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করে। পরে গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তররের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

মোঃ সুজন খন্দকার
রাজবাড়ী প্রতিনিধি।