ঢাকা ০১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের পদ পেয়েই কুলির সরদার থেকে কোটিপতি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৪৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ জুলাই ২০২৩
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের কাশিদয়ারামপুর গ্রামের মৃত আমিন সেকের ছেলে। দিনমজুর বাবার সংসারে অভাব অনটর সবসময় লেগেই থাকতো। অভাবের তাড়নায় বাচ্চু শেখ একসময় কাজ করতেন কোল্ডষ্টোরেজের সামান্য কুলির সরদার হিসেবে। মুন্সিগঞ্জের একটি কোল্ডষ্টোরেজে ১৫০ টাকা মজুরী ভিত্তিতে কাজ করতেন লোড-আনলোডের। এরপর ২০১৫ সালে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বাসায় ফাইফরমাশ খাটার কাজের লোক হিসেবে যোগদান করেন। এতেই যেন কপাল খুলে যায় তার। বাসার কাজ করতে করতে এমপি দুর্জয়ের মন গলিয়ে বাগিয়ে নেন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পদ। ধীরে দীরে সখ্যতা গড়ে তুলেন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথে।

যুবলীগের পদ পেতেই শুরু হয় তার ক্ষমতার দাপট। অবৈধভাবে দুহাতে কামাতে থাকেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। এরপর চাটুকারিতা ও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের হঠিয়ে হাতিয়ে নেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদ।

এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বাচ্চুকে। ক্ষমতার দাপটে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ান তিনি। অবৈধ ড্রেজার দিয়ে পদ্মায় বালু লুট করে রাতারাতি কামিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। গ্রামের সহজ-সরল অসহায় মানুষদের সরকারি ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা। এভাবে নানা ফন্দি-ফিকির করে দলীয় পদের অপব্যবহার করে গড়ে তুলেছেন কোটি টাকার সম্পদ।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েক বছর আগে সংসারের অভাব-অনটনের কারণে নদীতে মাছ ধরে বিক্রি করতো বাচ্চু। পরে মুন্সিগঞ্জের একটি কোল্ডষ্টোরেজে বস্তা উঠানামার কাজের শ্রমিক হিসবে কাজ শুরু করে সে। হঠাৎ কোল্ডষ্টোরেজের কুলির কাজ ছেড়ে এমপির বাসায় কাজের লোক হিসেবে ঢুকে বাচ্চু। এরপর কিভাবে যেন ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের বড় নেতা হয়ে যায় সে। দলীয় পদ পাওয়ার পর এখন সে কোটি টাকার মালিক।

জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন ও এমপি দুর্জয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে পদ্মা নদীতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু লুটপাট করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় বাচ্চু শেখ। সম্প্রতি পদ্মায় অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বাচ্চু শেখকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করে প্রশাসন।

বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন বলেন, বাঘুটিয়া চরে বাচ্চু নামের লোক আছে এটাই তো আমি জানতাম না। এমপির বাসায় কাজ করার সুবাদে পরে চিনেছি। তিনি এখন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। হতদরিদ্র পরিবারের বাচ্চু এখন রাজা বাদশার ছেলেদের মত চলাফেরা করে। তার আয়ের উৎস কি? তার বাপের তো জমিদারী ছিলনা।

এ বিষয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু শেখ বলেন, আমি কখন কুলি ছিলাম না। আমার কোন ব্যাংক ব্যালেন্স নেই। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দলের প্রতি আমার একনিষ্ঠতা ও সততা দেখে আমাকে দলের দায়িত্ব দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, দল কারো অপকর্মের দায়ভার নিবে না। দলের পরিচয় দিয়ে যদি কোন অপকর্মে লিপ্ত থাকে তাহলে তদন্তপূর্বক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সালথায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যায় পাঁচ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আওয়ামী লীগের পদ পেয়েই কুলির সরদার থেকে কোটিপতি

আপডেট সময় ০১:৪৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ জুলাই ২০২৩

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের কাশিদয়ারামপুর গ্রামের মৃত আমিন সেকের ছেলে। দিনমজুর বাবার সংসারে অভাব অনটর সবসময় লেগেই থাকতো। অভাবের তাড়নায় বাচ্চু শেখ একসময় কাজ করতেন কোল্ডষ্টোরেজের সামান্য কুলির সরদার হিসেবে। মুন্সিগঞ্জের একটি কোল্ডষ্টোরেজে ১৫০ টাকা মজুরী ভিত্তিতে কাজ করতেন লোড-আনলোডের। এরপর ২০১৫ সালে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বাসায় ফাইফরমাশ খাটার কাজের লোক হিসেবে যোগদান করেন। এতেই যেন কপাল খুলে যায় তার। বাসার কাজ করতে করতে এমপি দুর্জয়ের মন গলিয়ে বাগিয়ে নেন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পদ। ধীরে দীরে সখ্যতা গড়ে তুলেন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথে।

যুবলীগের পদ পেতেই শুরু হয় তার ক্ষমতার দাপট। অবৈধভাবে দুহাতে কামাতে থাকেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। এরপর চাটুকারিতা ও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের হঠিয়ে হাতিয়ে নেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদ।

এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বাচ্চুকে। ক্ষমতার দাপটে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ান তিনি। অবৈধ ড্রেজার দিয়ে পদ্মায় বালু লুট করে রাতারাতি কামিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। গ্রামের সহজ-সরল অসহায় মানুষদের সরকারি ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা। এভাবে নানা ফন্দি-ফিকির করে দলীয় পদের অপব্যবহার করে গড়ে তুলেছেন কোটি টাকার সম্পদ।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েক বছর আগে সংসারের অভাব-অনটনের কারণে নদীতে মাছ ধরে বিক্রি করতো বাচ্চু। পরে মুন্সিগঞ্জের একটি কোল্ডষ্টোরেজে বস্তা উঠানামার কাজের শ্রমিক হিসবে কাজ শুরু করে সে। হঠাৎ কোল্ডষ্টোরেজের কুলির কাজ ছেড়ে এমপির বাসায় কাজের লোক হিসেবে ঢুকে বাচ্চু। এরপর কিভাবে যেন ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের বড় নেতা হয়ে যায় সে। দলীয় পদ পাওয়ার পর এখন সে কোটি টাকার মালিক।

জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন ও এমপি দুর্জয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে পদ্মা নদীতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু লুটপাট করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় বাচ্চু শেখ। সম্প্রতি পদ্মায় অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বাচ্চু শেখকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করে প্রশাসন।

বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন বলেন, বাঘুটিয়া চরে বাচ্চু নামের লোক আছে এটাই তো আমি জানতাম না। এমপির বাসায় কাজ করার সুবাদে পরে চিনেছি। তিনি এখন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। হতদরিদ্র পরিবারের বাচ্চু এখন রাজা বাদশার ছেলেদের মত চলাফেরা করে। তার আয়ের উৎস কি? তার বাপের তো জমিদারী ছিলনা।

এ বিষয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু শেখ বলেন, আমি কখন কুলি ছিলাম না। আমার কোন ব্যাংক ব্যালেন্স নেই। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দলের প্রতি আমার একনিষ্ঠতা ও সততা দেখে আমাকে দলের দায়িত্ব দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, দল কারো অপকর্মের দায়ভার নিবে না। দলের পরিচয় দিয়ে যদি কোন অপকর্মে লিপ্ত থাকে তাহলে তদন্তপূর্বক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।