ঢাকা ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঈদের ছুটিতে কুমিল্লায় এসে বিব্রতকর এক অভিজ্ঞতা হলো-সাংবাদিক

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:১৯:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৩
  • ১৪৬ বার পড়া হয়েছে

ঈদের দিন নামাজের পরে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দেখা করা, হৈচৈ, আড্ডা সবই চলছিল স্বাভাবিকভাবে। হঠাৎ এক বন্ধু কথাপ্রসঙ্গে বলে বসলো, বন্ধু সাংবাদিকদের তো অনেক টাকা। প্রচুর আলগা ইনকাম সাংবাদিকদের। আর তাই আজকে পুরো চায়ের বিল তুই দে। তখনো আসলে বুঝি নি কী অপেক্ষা করছে সামনে। বললাম, অফিসের সেলারির বাইরে আমাদের আলাদা কোনো ইনকাম নাই। তখন বন্ধু আমার আরেক বন্ধুকে আমারই সামনে বলে, ওই দেখরে টাকা দিতে হবে দেখে এখন নীতি কথা বলে। অথচ তারা ক্যামেরার সামনে বুম ধরলে নাকি টাকা দিতে হয়? গতকাল চাঁন রাতেই একজন প্রায় ১২ হাজার টাকা তুললো আমার সামনেই।

বললাম, মানে কী? কেমনে কী?

উত্তরে বললো, গতকাল কান্দিরপাড়ে চৌরঙ্গী মার্কেটে এক সাংবাদিক এসে অনেকের ইন্টারভিউ নিলো বুম ধরে। এরপরে সবার কাছে গিয়ে বলে, স্যার ক্যামেরার সামনে বুম ধরলেই বাংলাদেশে ১ হাজার টাকা সম্মানি দিতে হয়। এটাই নিয়ম আর তাই এখন আমাদেরটা দিয়ে দেন।

এভাবে নাকি পুরো মার্কেটের অনেকের কাছ থেকেই টাকা নিয়েছে। আশেপাশের মার্কেট থেকেও টাকা তুলেছে।

ঘটনা শুনে জিজ্ঞেস করলাম, এটা কোন টিভি বা পত্রিকা?

তখন এই কার্ডটা পেলাম।

কার্ডটা কুমিল্লার স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ভাই-ব্রাদারের কাছে দিলাম।

একজন জানালো, শুধু ব্যবসায়ী না অনেক পেশাজীবিদের কাছ থেকেও নিয়েছে টাকা।

বন্ধুদের বললাম, দেখ দোস্ত সাংবাদিকতা একটা মহান পেশা। এই পেশায় যারা কাজ করে তারা টাকাটাকে প্রাধান্য তেমন দেয় না বরং যে ঝুঁকিটা থাকে সেটাকে উপভোগ করে দেখেই কাজটা করে৷ তবে অবস্থাটা এমন যে অনেকেই আজকাল গলায় কার্ড ঝুলিয়ে ঘুরে এই কাজগুলো করে। আর তাদের কারণে আমরা লজ্জায় প্রায় সময়ই কার্ডও রাখি না গলায়।

আরও বললাম, শুধু সাংবাদিকতা না বরং সব পেশাতেই পরগাছা আছে। ভুয়া ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার তো কমন দেশে৷ কিন্তু যারা এই টাকা দিলো তাদের তো বোঝা উচিত ছিল। ইভেন তাকে টাকা দেওয়ার সময় কুমিল্লার স্থানীয় সাংবাদিক বা আমাকে একটা ফোন দিতে পারতি অন্তত।

বন্ধু বললো, শুধু শুধু বিপদ ডেকে আনার মানে কী সাংবাদিকদের উলটা প্রশ্ন করে। একজন দিতে চায় নাই আর তখন সে ইনকাম ট্যাক্স কত দিছে তা জানতে চাইছিল।

বললাম, এখন কারো যদি দুর্বলতা থাকে তবে সেটার দায়তো পেশার সবার না। যাই হোক, তাও কার্ডটা দে। অন্তত সবাইকে সতর্ক যেনো অন্তত করতে পারি।

কার্ডে উল্লেখ করা নম্বরে ফোন দিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ ফোন পিক করে নাই।

পেশাটাকে বাঁচানোর জন্য এই পরগাছাগুলোকে দূর করা প্রয়োজন। কী বলেন?

ট্যাগস :

রাজবাড়ীর পাংশায় প্রান্তিক জনকল্যাণ সংস্থা কতৃক আয়োজিত ঈদ পূর্ণমিলন

ঈদের ছুটিতে কুমিল্লায় এসে বিব্রতকর এক অভিজ্ঞতা হলো-সাংবাদিক

আপডেট সময় ১০:১৯:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৩

ঈদের দিন নামাজের পরে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দেখা করা, হৈচৈ, আড্ডা সবই চলছিল স্বাভাবিকভাবে। হঠাৎ এক বন্ধু কথাপ্রসঙ্গে বলে বসলো, বন্ধু সাংবাদিকদের তো অনেক টাকা। প্রচুর আলগা ইনকাম সাংবাদিকদের। আর তাই আজকে পুরো চায়ের বিল তুই দে। তখনো আসলে বুঝি নি কী অপেক্ষা করছে সামনে। বললাম, অফিসের সেলারির বাইরে আমাদের আলাদা কোনো ইনকাম নাই। তখন বন্ধু আমার আরেক বন্ধুকে আমারই সামনে বলে, ওই দেখরে টাকা দিতে হবে দেখে এখন নীতি কথা বলে। অথচ তারা ক্যামেরার সামনে বুম ধরলে নাকি টাকা দিতে হয়? গতকাল চাঁন রাতেই একজন প্রায় ১২ হাজার টাকা তুললো আমার সামনেই।

বললাম, মানে কী? কেমনে কী?

উত্তরে বললো, গতকাল কান্দিরপাড়ে চৌরঙ্গী মার্কেটে এক সাংবাদিক এসে অনেকের ইন্টারভিউ নিলো বুম ধরে। এরপরে সবার কাছে গিয়ে বলে, স্যার ক্যামেরার সামনে বুম ধরলেই বাংলাদেশে ১ হাজার টাকা সম্মানি দিতে হয়। এটাই নিয়ম আর তাই এখন আমাদেরটা দিয়ে দেন।

এভাবে নাকি পুরো মার্কেটের অনেকের কাছ থেকেই টাকা নিয়েছে। আশেপাশের মার্কেট থেকেও টাকা তুলেছে।

ঘটনা শুনে জিজ্ঞেস করলাম, এটা কোন টিভি বা পত্রিকা?

তখন এই কার্ডটা পেলাম।

কার্ডটা কুমিল্লার স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ভাই-ব্রাদারের কাছে দিলাম।

একজন জানালো, শুধু ব্যবসায়ী না অনেক পেশাজীবিদের কাছ থেকেও নিয়েছে টাকা।

বন্ধুদের বললাম, দেখ দোস্ত সাংবাদিকতা একটা মহান পেশা। এই পেশায় যারা কাজ করে তারা টাকাটাকে প্রাধান্য তেমন দেয় না বরং যে ঝুঁকিটা থাকে সেটাকে উপভোগ করে দেখেই কাজটা করে৷ তবে অবস্থাটা এমন যে অনেকেই আজকাল গলায় কার্ড ঝুলিয়ে ঘুরে এই কাজগুলো করে। আর তাদের কারণে আমরা লজ্জায় প্রায় সময়ই কার্ডও রাখি না গলায়।

আরও বললাম, শুধু সাংবাদিকতা না বরং সব পেশাতেই পরগাছা আছে। ভুয়া ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার তো কমন দেশে৷ কিন্তু যারা এই টাকা দিলো তাদের তো বোঝা উচিত ছিল। ইভেন তাকে টাকা দেওয়ার সময় কুমিল্লার স্থানীয় সাংবাদিক বা আমাকে একটা ফোন দিতে পারতি অন্তত।

বন্ধু বললো, শুধু শুধু বিপদ ডেকে আনার মানে কী সাংবাদিকদের উলটা প্রশ্ন করে। একজন দিতে চায় নাই আর তখন সে ইনকাম ট্যাক্স কত দিছে তা জানতে চাইছিল।

বললাম, এখন কারো যদি দুর্বলতা থাকে তবে সেটার দায়তো পেশার সবার না। যাই হোক, তাও কার্ডটা দে। অন্তত সবাইকে সতর্ক যেনো অন্তত করতে পারি।

কার্ডে উল্লেখ করা নম্বরে ফোন দিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ ফোন পিক করে নাই।

পেশাটাকে বাঁচানোর জন্য এই পরগাছাগুলোকে দূর করা প্রয়োজন। কী বলেন?