ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
এইমাত্র প্রাপ্ত ::
Logo ঝালকাঠিতে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং-এ ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মানের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন Logo অনুষ্ঠিত হলো ঢাকাস্থ রাজবাড়ী জেলা সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী পরিষদের প্রথম বৈঠক। Logo সালথার সোনাপুর ইউনিয়ন কৃষকলীগের আংশিক কমিটি গঠন ‘সভাপতি শাহজাহান, সম্পাদক আমির’ Logo ঝালকাঠিতে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নারী সহ আহত ১১ Logo রুপাপাত বামন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত Logo সালথায় সন্তানদের হাতে পিতা নিহত: আটক-৪ Logo প্রেমিকের সাথে অভিমানে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা Logo সহকারী নার্স মোতালেবের দাপটে অসহায় চিকিৎসক-নার্স-কর্মচারীরা Logo ৬ দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ, চরম দুর্ভোগ! Logo সালথায় ইউএনও বিদায় ও নবাগতকে সংবর্ধনা
সিলেটে বন্যার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে করে সেখানে মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির আভাস তৈরি হয়েছে। সুনামগঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যায় মানবিক বিপর্যয়ের আভাস

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় ০৮:১১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুন ২০২২
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

মাইকিং করে উদ্ধারের চেষ্টা:
সিলেট উপশহরে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী বুক-সমান পানিতে নেমে মাইকিং করে এ গলি সেই গলি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সঙ্গে করে তারা নিয়ে যাচ্ছেন পানির বোতল।

এই দলের একজন সুলায়মান মিয়া বিবিসিকে বলেন যে তার এলাকা একতলা সমান পানিতে ডুবে গেছে। দুই তিন তলায় কেউ আছেন কি না তারা সেটা খুঁজে দেখছেন এবং তাদেরকে তিনি অন্তত খাবার পানি দিয়ে সাহায্য করতে চান।

“এই এলাকাতে বলা যায় বেশ বিত্তবানরা থাকেন। এখানে দুই তলা থেকে চার তলা পর্যন্ত বাড়িতে মানুষ আটকে আছে। যারা বারান্দা থেকে আমাদের কাছে পানি চাচ্ছেন তাদেরকে দিচ্ছি। কিন্তু আমাদের একার পক্ষে একাজ করা সম্ভব না। আর বেশি দূর যেতেও পারবো না। পানির গভীরতা সেখানে আরো বেশি,” বলেন তিনি।

একথার পরেই তার ফোনের লাইন কেটে যায়। সুনামগঞ্জের মত সিলেটেও এখন মোবাইলের নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে, তবে ক্ষণিকের জন্য।

একারণে কে কোথায় আশ্রয় নিয়েছেন তার খবর নিতে পারছেন না পরিবার বা আত্মীয় স্বজনরা।

আটকা পড়েছেন অনেকে
সিলেটের বাইরে থেকে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে সিলেটেই আটকে পড়েছেন এমন অনেকে। তারা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
তাদের একজন বলেন, “আমার স্ত্রী, দুই সন্তান সবাই সুনামগঞ্জে। আমি বন্যার কথা শুনে ঢাকা থেকে আসছি। এখন তো সুনামগঞ্জে যেতে পারছি না। মোবাইলে নেটওয়ার্ক নেই। আমি জানি না তারা কোথায় আছে।”

আরেকজন বলেন, ” কুমিল্লা থেকে আসছি। এখনতো আর কোথাও যেতে পারছি না। পরিবার কোথায় আশ্রয় নিয়েছে তার খোঁজ এখনও পাই নি।”

সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন, সিলেট থেকে সাধারণ মানুষের সুনামগঞ্জ যাওয়ার কোন উপায় নেই। শুধু উদ্ধারকর্মী ও ত্রাণকর্মীরা নৌকাযোগে যেতে পারছেন সেখানে।

জেলা প্রশাসক সীমিত আকারে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু হয়েছে বলে দাবি করলেও, সুনামগঞ্জের কয়েকজন বাসিন্দার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
সিলেট শহরের একজন বাসিন্দা থৌদাম বৌলি বলেন, “সুনামগঞ্জ এবং সিলেটের আশেপাশের এলাকার মানুষজন এসে আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। আমাদের এলাকায় এখনো পানি আসে নি। তবে আমরা বাইরে বের হয়ে শুকনা খাবার বা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারছি না। কারণ দোকান সব বন্ধ, আর যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো অনেক দাম। আমার জীবনে আমি এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতি দেখিনি কখনো”

আশ্রয়কেন্দ্রে ৭০ হাজার মানুষ

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, শহর থেকে পানির উচ্চতা কিছুটা কমলেও জেলার ৯০ শতাংশ এখনও পানির নিচে। জেলার ৭০ হাজারের মতো মানুষ ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন।

কর্মকর্তারা বলছেন হাওর ও অন্যান্য প্রত্যন্ত এলাকার যারা নিরাপদ দূরত্বে এখনো সরে আসতে পারেন নি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী।

শুক্রবার মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর সেখানে বিশেষ ব্যবস্থায় সীমিত জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠিতে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং-এ ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মানের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

সিলেটে বন্যার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে করে সেখানে মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির আভাস তৈরি হয়েছে। সুনামগঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যায় মানবিক বিপর্যয়ের আভাস

আপডেট সময় ০৮:১১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুন ২০২২

মাইকিং করে উদ্ধারের চেষ্টা:
সিলেট উপশহরে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী বুক-সমান পানিতে নেমে মাইকিং করে এ গলি সেই গলি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সঙ্গে করে তারা নিয়ে যাচ্ছেন পানির বোতল।

এই দলের একজন সুলায়মান মিয়া বিবিসিকে বলেন যে তার এলাকা একতলা সমান পানিতে ডুবে গেছে। দুই তিন তলায় কেউ আছেন কি না তারা সেটা খুঁজে দেখছেন এবং তাদেরকে তিনি অন্তত খাবার পানি দিয়ে সাহায্য করতে চান।

“এই এলাকাতে বলা যায় বেশ বিত্তবানরা থাকেন। এখানে দুই তলা থেকে চার তলা পর্যন্ত বাড়িতে মানুষ আটকে আছে। যারা বারান্দা থেকে আমাদের কাছে পানি চাচ্ছেন তাদেরকে দিচ্ছি। কিন্তু আমাদের একার পক্ষে একাজ করা সম্ভব না। আর বেশি দূর যেতেও পারবো না। পানির গভীরতা সেখানে আরো বেশি,” বলেন তিনি।

একথার পরেই তার ফোনের লাইন কেটে যায়। সুনামগঞ্জের মত সিলেটেও এখন মোবাইলের নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে, তবে ক্ষণিকের জন্য।

একারণে কে কোথায় আশ্রয় নিয়েছেন তার খবর নিতে পারছেন না পরিবার বা আত্মীয় স্বজনরা।

আটকা পড়েছেন অনেকে
সিলেটের বাইরে থেকে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে সিলেটেই আটকে পড়েছেন এমন অনেকে। তারা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
তাদের একজন বলেন, “আমার স্ত্রী, দুই সন্তান সবাই সুনামগঞ্জে। আমি বন্যার কথা শুনে ঢাকা থেকে আসছি। এখন তো সুনামগঞ্জে যেতে পারছি না। মোবাইলে নেটওয়ার্ক নেই। আমি জানি না তারা কোথায় আছে।”

আরেকজন বলেন, ” কুমিল্লা থেকে আসছি। এখনতো আর কোথাও যেতে পারছি না। পরিবার কোথায় আশ্রয় নিয়েছে তার খোঁজ এখনও পাই নি।”

সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন, সিলেট থেকে সাধারণ মানুষের সুনামগঞ্জ যাওয়ার কোন উপায় নেই। শুধু উদ্ধারকর্মী ও ত্রাণকর্মীরা নৌকাযোগে যেতে পারছেন সেখানে।

জেলা প্রশাসক সীমিত আকারে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু হয়েছে বলে দাবি করলেও, সুনামগঞ্জের কয়েকজন বাসিন্দার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
সিলেট শহরের একজন বাসিন্দা থৌদাম বৌলি বলেন, “সুনামগঞ্জ এবং সিলেটের আশেপাশের এলাকার মানুষজন এসে আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। আমাদের এলাকায় এখনো পানি আসে নি। তবে আমরা বাইরে বের হয়ে শুকনা খাবার বা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারছি না। কারণ দোকান সব বন্ধ, আর যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো অনেক দাম। আমার জীবনে আমি এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতি দেখিনি কখনো”

আশ্রয়কেন্দ্রে ৭০ হাজার মানুষ

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, শহর থেকে পানির উচ্চতা কিছুটা কমলেও জেলার ৯০ শতাংশ এখনও পানির নিচে। জেলার ৭০ হাজারের মতো মানুষ ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন।

কর্মকর্তারা বলছেন হাওর ও অন্যান্য প্রত্যন্ত এলাকার যারা নিরাপদ দূরত্বে এখনো সরে আসতে পারেন নি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী।

শুক্রবার মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর সেখানে বিশেষ ব্যবস্থায় সীমিত জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।